ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬ , ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্যর্থ প্রজেক্ট ফ্রিডম, হরমুজে আটকা ১৬০০ জাহাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৫-০৭ ১১:৫৫:৩৮
ব্যর্থ প্রজেক্ট ফ্রিডম, হরমুজে আটকা ১৬০০ জাহাজ ব্যর্থ প্রজেক্ট ফ্রিডম, হরমুজে আটকা ১৬০০ জাহাজ
নিজস্ব প্রতিবেদক
হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা ১ হাজার ৬০০টি বাণিজ্যিক জাহাজের কয়েক হাজার নাবিকের কাছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ কোনো মুক্তি বয়ে আনতে পারেনি। প্রণালির মধ্য দিয়ে জাহাজগুলোকে ‘নিরাপদ পথ’ দেখিয়ে নিয়ে যাওয়ার এই মার্কিন সামরিক অভিযান মাত্র ৪৮ ঘণ্টা স্থায়ী হওয়ার পর স্থগিত করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে মাত্র দুটি জাহাজ নিরাপদে পার হতে পেরেছে।

অভিযানটি স্থগিত হওয়ায় শিপিং কোম্পানি এবং আটকা পড়া নাবিকেরা পুনরায় অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। কোনো টেকসই নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া তারা এই ঝুঁকিপূর্ণ পথ পাড়ি দিতে নারাজ। যদিও বর্তমানে যুদ্ধবিরতি চলছে, তবুও ২১ মাইল দীর্ঘ এই পানিপথের ওপর দিয়ে এখনো মাঝেমধ্যেই ক্ষেপণাস্ত্র উড়ে যেতে দেখা যাচ্ছে।

লস অ্যাঞ্জেলেস বন্দরের নির্বাহী পরিচালক জিন সেরোকা বলেন, ‘একটি প্রমাণিত ও নির্ভরযোগ্য প্রকৃত শান্তি চুক্তি ছাড়া বাণিজ্যিক শিপিং কোম্পানিগুলোর আস্থা ফিরে আসবে না।’

মধ্যপ্রাচ্যে শিপিং খাতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা সম্পন্ন সেরোকা জানান, মার্কিন সামরিক সহায়তার আশ্বাস সত্ত্বেও কোনো শিপিং কোম্পানি তাদের কার্গো বা কর্মীদের ঝুঁকির মুখে ফেলতে রাজি নয়।

সাধারণ সময়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন অন্তত ১২০টি জাহাজ চলাচল করে, যা বিশ্বের মোট তেলের ২০ শতাংশ সরবরাহ নিশ্চিত করে। তবে গত দুই মাস ধরে এই পথে যাতায়াত কার্যত স্থবির হয়ে আছে। বিমা কোম্পানিগুলো যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে ক্ষয়ক্ষতির দায় নিতে অস্বীকৃতি জানানোয় শিপিং কোম্পানিগুলোর আর্থিক ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে।

ডেনিশ শিপিং জায়ান্ট মায়েরস্ক নিশ্চিত করেছে, তাদের একটি জাহাজ মার্কিন পাহারায় বের হয়ে আসা দুই জাহাজের একটি।

অন্যদিকে হ্যাপাগ-লয়েড জানিয়েছে, তারা তাদের বাকি চারটি জাহাজ বের করতে এই মার্কিন সেবা ব্যবহারের পরিকল্পনা করলেও অভিযান স্থগিত হওয়ায় পরিস্থিতি আবার বদলে গেছে।

আইএমও-এর তথ্যমতে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ৩২টি জাহাজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে, যাতে ১০ জন নিহত হয়েছেন।

এরই মধ্যে ইরান ঘোষণা করেছে, তারা ‘পার্সিয়ান গাল্ফ স্ট্রেট অথরিটি’ গঠন করেছে, যারা এই পানিপথ দিয়ে জাহাজ চলাচলের টোল এবং নিয়মকানুন নিয়ন্ত্রণ করবে।

যদিও যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, এই প্রণালি নিয়ন্ত্রণের কোনো আইনি অধিকার ইরানের নেই, তবুও বাস্তব পরিস্থিতিতে শিপিং কোম্পানিগুলো চরম নিরাপত্তা সংকটে ভুগছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ